হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ২২শে বাহমান ১৪০৪ তারিখে সাহসী ইরানি জাতির আরেকটি মহাকাব্য সৃষ্টির প্রশংসায় ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান আয়াতুল্লাহ আরাফির বার্তার পূর্ণ বিবরণ নিম্নরূপ:
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
ইলাহি অনুগ্রহের মৃদুমন্দ বাতাস ও জাতীয় উপস্থিতির উচ্ছ্বাস ২২শে বাহমান ১৪০৪-এর পদযাত্রাকে ইরান, ইসলাম ও ইসলামি বিপ্লবের ইতিহাসে এক বিস্ময়কর, চমকপ্রদ ও গর্বের ঘটনার রূপে দেখিয়েছে এবং স্বাধীনতা, মুক্তি, ইসলামি প্রজাতন্ত্র, বিশ্বব্যাপী আন্দোলন ও স্বৈরাচার, সাম্রাজ্যবাদ ও বিশ্বশোষণের বিরুদ্ধে সার্বজনীন প্রতিরোধের পতাকাকে আরো উন্নীত করেছে। আমরা মহান সত্যের দরবারে মস্তক অবনত করি এবং কৃতজ্ঞতা জানাই। সাহসী ও সচেতন ইরানি জাতি, বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম ও পরিবর্তনকামী এবং সজাগ তরুণদের প্রতি আমরা অন্তর থেকে অভিবাদন ও বিনয়াবনত জানাই এবং আন্তরিকভাবে এই ঈমানি, জাতীয় ও সার্বজনীন উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনার প্রশংসা করি, যা গ্রাম ও শহর থেকে শুরু করে মহানগরী, বিশেষ করে তেহরান ও কোম পর্যন্ত বিস্তৃত—একে মূল্যায়ন, কদর ও কৃতজ্ঞতা জানানো প্রয়োজন।
এটা স্পষ্ট যে, ইসলাম, ইরান ও ইসলামি ব্যবস্থার এই জাঁকজমক ও গৌরব নিপীড়ক, দুর্নীতিগ্রস্ত ও বিদ্বেষপূর্ণ শত্রুকে পশ্চাদপসরণে বাধ্য করবে এবং নিপীড়িত, ন্যায়প্রিয় ও সত্য সন্ধানীদের শক্তিশালী ও আশাবাদী করবে এবং বিশ্বে ইরান ও তার মহান জাতির কেন্দ্রীয় অবস্থানকে আরো সুউচ্চ করবে। কিন্তু এই ঐক্য সৃষ্টিকারী উপস্থিতি ও ইরানিদের মহোৎসব আমাদের ও দায়িত্বশীলদের কর্তব্য দ্বিগুণ ও অত্যন্ত ভারী করে তুলেছে।
বিশ্ব ও সমাজ, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে আরও ভালোভাবে জানা, সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের সাথে আন্তরিক ও বৌদ্ধিক সম্পর্ক স্থাপন ও জোরদার করা, জিহাদ তাবইন ও সুস্পষ্ট ঘোষণার জন্য নতুন পরিকল্পনা তৈরি করা, ইসলামি বিপ্লবের অর্জনসমূহ চিত্রিত করা, ইসলামের সভ্যতামূলক বক্তৃতার ধারা ও তার সাম্রাজ্যবাদের সাথে মোকাবিলার ক্ষেত্রসমূহ ব্যাখ্যা করা এবং নিজেদের শক্তি ও দুর্বলতাগুলো পুনর্মূল্যায়ন করা—এই সবকিছুই নির্বাহী, আইন প্রণয়ন, বিচার বিভাগীয়, সাংস্কৃতিক ও প্রচারমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোর দায়িত্বের অংশ।
জাতির সুস্পষ্ট বার্তা হলো ইসলাম, বিপ্লব ও মূল্যবান শহীদদের আদর্শের প্রতি অটল থাকা, ইসলামি বিপ্লবের মহান নেতৃত্বের অনুসরণ করা এবং জীবনযাত্রার ও সাংস্কৃতিক সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষের দ্বিগুণ প্রচেষ্টা দাবি করা। আশা করি, সম্মানিত সরকার, বিভিন্ন দায়িত্বশীল ও প্রতিষ্ঠান নতুন পরিকল্পনা হাতে নেবে এবং জনগণের অগ্রগতি ও সমস্যা সমাধানে নতুন পথের সন্ধান পাবে।
শান্তি ও দরুদ বর্ষিত হোক হজরত ওয়ালিয়ে আসর (আ.)-এর প্রতি এবং গৌরবময় শহীদ ও শহীদদের ইমাম এবং মহান ইরানি জাতির প্রতি।
আলী রেজা আরাফি
আপনার কমেন্ট